মোঃ মোনাব্বেরুল হক, নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো আসবাবপত্র বিক্রিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র গোপনে বিক্রি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা পৌরশহরের চেরেঙ্গা ১ নং ঝাড়পাড়া এল.পি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোতাহার হোসেন-কে এবং সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সহকারী শিক্ষা অফিসার পারুল বেগম-কে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর আমিন পহেলা বৈশাখের ছুটির সময় বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগে কোনো ধরনের সরকারি নিলাম ছাড়াই পুরোনো আসবাবপত্র বিক্রি করেন। এর মধ্যে ছিল তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিকক্ষের ২০ জোড়া লোহার বেঞ্চ, ৪টি লোহার টেবিল এবং ৪টি লোহার চেয়ার। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব আসবাবপত্র এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়।
এ ঘটনায় আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার কিংবা অন্য কোনো সহকারী শিক্ষককে বিষয়টি জানানো হয়নি। এমনকি সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মও অনুসরণ করা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্যসহ শতাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুর আমিন দাবি করেন, পুরোনো আসবাবপত্র ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এবং সেই টাকা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে।
নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন,
“সহকারী শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়টি না জানানো আমার ভুল হয়েছে।”
এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। সব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply