ক্রীড়া ডেস্ক
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত বোলিং, দাপুটে ক্রিকেট এবং অসাধারণ দলীয় নৈপুণ্যে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের শক্ত অবস্থানের আরও একটি বড় বার্তা দিল বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদের দারুণ ডেলিভারিতে কটবিহাইন্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার ইমাম-উল হক। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে সফরকারীরা।
বাংলাদেশের পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ওপেনার আজান আওয়াইস ১৫ এবং অধিনায়ক শান মাসুদ মাত্র ২ রান করে ফিরে গেলে ৬৮ রানেই ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৫১ রানের জুটি পাকিস্তানকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও সেই জুটি ভেঙে দেন টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
দুর্দান্ত ব্যাট করা আব্দুল্লাহ ফজল ১১৩ বলে ১১টি চার হাঁকিয়ে ৬৬ রান করেন। পরের ওভারেই সালমান আগাকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় বাংলাদেশ।
তরুণ পেসার নাহিদ রানা এদিন ছিলেন আগুনঝরা। ঘণ্টায় দেড়শ কিলোমিটারের কাছাকাছি গতির বোলিংয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের আতঙ্কে রাখেন তিনি। নিজের টানা দুই ওভারে সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে আউট করে পাকিস্তানের শেষ ভরসাটুকুও ভেঙে দেন নাহিদ। দুই ব্যাটারই ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। পরে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে হাসান আলি এলবিডব্লিউ হলে দ্রুতই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৬৩ রানেই অলআউট হয় সফরকারীরা।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ফিফটিতে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান আজান আওয়াইসের সেঞ্চুরিতে ৩৮৬ রান তুললেও ২৮ রানের লিড পায় টাইগাররা।
দ্বিতীয় ইনিংসে শান্ত, মুশফিক, মুমিনুল ও মেহেদি হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ফলে পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের কঠিন লক্ষ্য দাঁড়ায়। কিন্তু শেষ দিনে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা।
এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্ত করল বাংলাদেশ। ২০ বছর অপেক্ষার পর ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পাওয়ার পর এবার ঘরের মাঠ মিরপুরেও পাকিস্তানকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল টাইগাররা।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগ্রাসী বোলিং, তাসকিন আহমেদের অভিজ্ঞতা এবং তাইজুল ইসলামের স্পিন জাদু মিলে মিরপুর টেস্টকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় এক ম্যাচে পরিণত করেছে।
Leave a Reply