জেলা প্রতিনিধি
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) এবং মাওয়া প্রান্তে অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছিল খালেদা জিয়া সরকারের আমলে। তিনি বলেন, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তৎকালীন সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করেছিল, যার ভিত্তিতেই পরবর্তীতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এগিয়ে যায়।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু দেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ ছিল। তিনি দাবি করেন, প্রকল্পটি আরও স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যয় অনেক কমানো সম্ভব হতো।
মেগা প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নামে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। তার ভাষায়, “প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে এবং ২০ লাখ কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক ঋণের বোঝা দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে সেই অর্থনৈতিক চাপ ও বাস্তবতা মোকাবিলা করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে বাস্তবায়নাধীন ১৬টি বড় মেগা প্রকল্পের অনেকগুলোর কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। কিছু প্রকল্পে বিদেশি ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও থমকে গেছে। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার কারণে এখন অনেক বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী বড় প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারকে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, “আজ গাছ লাগিয়ে যদি এক বছর পর সেটি আর না থাকে, তাহলে সেই উদ্যোগের কোনো মূল্য থাকে না।” পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার একেএম নাসিরউদ্দিন কালু, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ-উজ-জামানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
Leave a Reply