ক্রীড়া ডেস্ক
দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেইমারকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তার মতে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের একজন নেইমার এবং এমন একজন ফুটবলারের বিশ্বকাপে উপস্থিতি পুরো টুর্নামেন্টের সৌন্দর্যই বাড়িয়ে দেয়।
‘লো দেল পোলো শো’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে মেসি বলেন, বিশ্বকাপ সবসময় সেরাদের আসর। আর নেইমার সেই সেরা ফুটবলারদেরই একজন। তিনি মনে করেন, নেইমার মাঠে থাকলে শুধু ব্রাজিল নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বই উপকৃত হবে। বর্তমান পরিস্থিতি যেমনই হোক, আগামী বিশ্বকাপে তাকে দেখতে পারাটা হবে বিশেষ কিছু।
বন্ধুত্বের জায়গা থেকে নেইমারকে মূল্যায়ন করা নিজের জন্য কঠিন বলেও স্বীকার করেন মেসি। কারণ, মাঠের সম্পর্কের বাইরে তাদের ব্যক্তিগত বন্ধনও বেশ গভীর। মেসির ভাষায়, নেইমার শুধু অসাধারণ ফুটবলারই নন, মানুষ হিসেবেও দারুণ। তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকেন এবং জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিও ইতিবাচক।
বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় থেকেই দুজনের বন্ধুত্বের শুরু। পরে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনেও একই দলে খেলেন তারা। বার্সেলোনায় চার মৌসুম ও পিএসজিতে দুই মৌসুম কাটানোর সময় মাঠে ও মাঠের বাইরে তাদের বোঝাপড়া ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে।
২০২৩ সালে পিএসজি ছাড়ার পর দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। মেসি পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে, আর নেইমার যোগ দেন সৌদি আরবের আল হিলালে। তবে ইনজুরির কারণে সৌদি অধ্যায়টা সুখকর হয়নি ব্রাজিলিয়ান তারকার জন্য। চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি ফিরে যান শৈশবের ক্লাব সান্তোসে।
নেইমারের ব্যক্তিত্ব নিয়েও প্রশংসা করেছেন মেসি। তার মতে, নেইমার খুবই প্রাণবন্ত একজন মানুষ, যিনি নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতে ভালোবাসেন। সমালোচনা বা বাইরের চাপ তাকে খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারে না।
অন্যদিকে, আগামী বিশ্বকাপ খেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেইমারও। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরতে পারলে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। এরপর গুরুতর ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।
Leave a Reply