নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল সাম্প্রতিক সময় আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। পর্দায় খল চরিত্রে অভিনয় করেই যেমন তিনি আলোচনায় থাকেন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বারবার। এবার তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়েছে পারিবারিক সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত জীবনে ওঠা গুরুতর অভিযোগকে ঘিরে।
সম্প্রতি ডিপজলের তিন বোন অভিযোগ করেন—প্রায় চার দশক ধরে পৈতৃক সম্পত্তিতে তাদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করেছেন ডিপজল ও দুই ভাই। তাদের দাবি, শত কোটি টাকার সম্পদ তিনি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এ অভিযোগে তারা আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে শুক্রবার তারা দখলকৃত বলে দাবি করা ওই সম্পত্তিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন, যা দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিপজল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সবসময়ই বোনদের সম্মান করেছেন ও সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থেকেছেন। অসুস্থ সন্তান থাকা এক বোনের অভিযোগের জবাবে ডিপজল জানান—সেই সন্তানের চিকিৎসায় তিনি দেশ-বিদেশে সহায়তা করেছেন। আরেক বোনের দাবি ছিল—১১ বছর ধরে যোগাযোগ নেই; কিন্তু ডিপজল দাবি করেন—মাত্র দুই মাস আগেও তিনি আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে ডিপজল ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “পর্দায় আমি অভিনয় করি, বাস্তব জীবনে নয়। যদি জানতাম বাস্তবেও এমন অভিনয়ের মুখোমুখি হতে হবে, তবে প্রতিটি কাজের প্রমাণ রেখে দিতাম।” তার প্রশ্ন—৩৫ বছর পরে হঠাৎ এমন অভিযোগ কেন উঠছে? তার দাবি, যদি বোনদের সত্যিই কোনো দাবি থাকত, তবে তিনি স্বেচ্ছায় তাদেরকে দ্বিগুণ-তিনগুণ সম্পদ দিয়ে দিতেন।
ডিপজল পোস্টে আরও জানান, মামলা আদালতে বিচারাধীন—তাই রায় না আসা পর্যন্ত সবার অপেক্ষা করা উচিত, কারণ আদালতেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।
এদিকে পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি ডিপজল নতুন আরেকটি বিতর্কে জড়িয়েছেন। এক নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর ও এসিড নিক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন, যা পুরো ঘটনার জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Leave a Reply