1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
July 16, 2026, 9:08 pm

মিয়ানমারের উপকূলে বঙ্গোপসাগরে দুই নৌকাডুবিতে নিহত ৫৩০ রোহিঙ্গা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 16, 2026
  • 18 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার উপকূলে দুটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌযানে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এ তথ্য জানায়। সংস্থাগুলো জানায়, নিহতদের মধ্যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গারাও ছিলেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্যের উপকূল থেকে দুটি নৌকা যাত্রা শুরু করে। একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন এবং অন্যটিতে প্রায় ২৬০ জন আরোহী ছিলেন। নিরাপদ আশ্রয় ও উন্নত জীবনের আশায় তারা সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

যাত্রার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাওয়াদি উপকূলের কাছে দুটি নৌকার সঙ্গেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, প্রথমে একটি এবং কিছু সময়ের ব্যবধানে অপর নৌকাটিও উত্তাল সাগরে ডুবে যায়।

এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী জীবিত উদ্ধার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫৩০ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর।

নৌকাগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও, জাতিসংঘের ধারণা, সেগুলো মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া অথবা থাইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারকারী চক্রগুলো এসব দেশকে লক্ষ্য করে রোহিঙ্গাদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় উদ্বুদ্ধ করে আসছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, সংঘাত, নিপীড়ন, অনিশ্চয়তা এবং শরণার্থী শিবিরে সীমিত কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগের কারণে অনেক রোহিঙ্গা এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বর্ষাকালে উত্তাল সাগর ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এসব নৌযাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার রোধ, নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষকে দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা এবং প্রাণহানির ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV