ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাটকীয় এক লড়াই শেষে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জমে থাকা ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেয় লিওনেল মেসির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। লিওনেল মেসির কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে জালের দেখা পান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। শুরুর গোলটি আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাস দিলেও সুইজারল্যান্ডও পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকবার চাপে ফেলে আলবিসেলেস্তেদের।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্রিল এমবোলো ও তার সতীর্থরা কয়েকটি বিপজ্জনক সুযোগ তৈরি করেন। তবে প্রতিবারই আর্জেন্টিনার শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। বিশেষ করে এমবোলোর একান্ত সুযোগ নষ্ট করে তিনি দলকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান।
এক গোলের লিড নিয়ে খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালাতে থাকে সুইজারল্যান্ড। শেষ দশ মিনিটে একের পর এক কর্নার, ফ্রি-কিক ও আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। অবশেষে বাম প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা ড্যান এনদোয়ের জোরালো শটে সমতায় ফেরে সুইসরা। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময় শুরুর আগে বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখা ব্রিল এমবোলো ভিএআরের সহায়তায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে হুলিয়ান আলভারেজ বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে দলকে আবারও এগিয়ে দেন। পুরো টুর্নামেন্টে গোলশূন্য থাকা এই ফরোয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত লিড।
এরপরও থামেনি আর্জেন্টিনা। প্রতি আক্রমণেই গোলের খোঁজে ছিল তারা। এক পর্যায়ে থিয়াগো আলমাদার শট সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে কোনো ভুল করেননি লাউতারো মার্তিনেজ। কাছ থেকে জালে বল পাঠিয়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আবারও পৌঁছে গেল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। অন্যদিকে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে বিদায় নিতে হলো সুইজারল্যান্ডকে।
Leave a Reply