ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও এবারের আসরে মিশরের পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। মাঠের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার নির্ধারিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) পাচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ। সব মিলিয়ে মিশরের আর্থিক প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার আনুমানিক ১২৩ টাকা হিসাবে)।
এবারের বিশ্বকাপে ‘ফারাও’ নামে পরিচিত মিশরীয় দল একাধিক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে তারা জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়টি ছিল মিশরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক অনন্য অর্জন।
শুধু নকআউট পর্বে সাফল্য নয়, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে মিশর। একটি বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়ে তারা। পাশাপাশি গোল করার ক্ষেত্রেও নিজেদের ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে দলটি। এবারের আসরে প্রতিপক্ষের জালে মোট আটবার বল পাঠিয়ে এক বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়ে মিশর।
বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে একই গ্রুপে থেকেও দুর্দান্ত লড়াই করে মিশর। গ্রুপ পর্বে রানার্সআপ হয়ে নকআউট নিশ্চিত করা দলটি শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র ও একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ করে।
ফিফার আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, মিশরের এই প্রাপ্তির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন খাতের অর্থ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ ব্যয় বাবদ তারা পেয়েছে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করায় যোগ হয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলোতে পৌঁছানোর সাফল্যের জন্য পেয়েছে আরও ৬ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি দেশটির সর্বোচ্চ আর্থিক অর্জন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ মিশরের ঘরোয়া ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন, তরুণ খেলোয়াড় তৈরির প্রকল্প এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মিশর শুধু বিশ্বকাপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেনি, একই সঙ্গে আফ্রিকান ফুটবলের জন্যও নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে।
Leave a Reply