ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই শেষ আটে ওঠা আট দলের শিবিরে নতুন চিন্তা যোগ হয়েছে। সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে নামার আগে দলগুলোকে হিসাব করতে হচ্ছে হলুদ কার্ডের ঝুঁকি। কারণ, কোয়ার্টার ফাইনালে আর একটি হলুদ কার্ড দেখলেই ১৭ ফুটবলারকে দর্শক হয়ে দেখতে হতে পারে সেমিফাইনালের ম্যাচ।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের রাউন্ড অব ৩২ থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় দুইবার হলুদ কার্ড দেখলে তাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় সেমিফাইনালে মাঠে নামার সুযোগ হারাবেন। তবে সেমিফাইনাল শুরু হওয়ার আগে হলুদ কার্ডের হিসাব নতুন করে শুরু হবে, অর্থাৎ আগের কার্ডগুলো আর বিবেচনায় থাকবে না।
সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে ইংল্যান্ড ও মরক্কোকে। ইংলিশ শিবিরে ডেকলান রাইস, নিকো ও’রাইলি, মার্ক গেহি ও জুড বেলিংহ্যাম—চার গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই একটি করে হলুদ কার্ড নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নামবেন। ফলে তাদের মাঠের আগ্রাসন ও ট্যাকলিংয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হবে।
মরক্কোর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। আফ্রিকান দলটির অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি, ইসা দিয়েপ, রেদুয়ান হালহাল ও বিলাল এল খান্নুস রয়েছেন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে। দলের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসব খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।
কার্ড ঝুঁকিতে থাকা অন্য খেলোয়াড়দের তালিকাতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিচিত নাম। ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে ও মানু কোনে, সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুইহাইম, আর্জেন্টিনার গনসালো মন্তিয়েল, স্পেনের ফেরান তোরেস, নরওয়ের আন্তোনিও নুসা এবং বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেখেলে রয়েছেন একই অবস্থায়।
বিশেষ করে বড় ম্যাচে দলের ভারসাম্য ধরে রাখতে এসব খেলোয়াড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে শুধু প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের শৃঙ্খলা নিয়েও লড়তে হবে তাদের।
এদিকে ইংল্যান্ড ইতোমধ্যে একটি ধাক্কা পেয়েছে। লাল কার্ড দেখায় জ্যারেল কোয়ানসাহ কোয়ার্টার ফাইনালেই মাঠের বাইরে থাকবেন। অন্যদিকে ফ্রান্স তাদের খেলোয়াড় মাইকেল ওলিসের হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফার কাছে আপিল করেছে।
বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ের ম্যাচগুলোতে যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে একটি কার্ডই বদলে দিতে পারে পুরো দলের কৌশল। তাই সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ৮ দলের কোচদের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—সেরা একাদশ ধরে রাখা এবং খেলোয়াড়দের কার্ডের ফাঁদ থেকে দূরে রাখা।
Leave a Reply