তিস্তা টিভি ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ছড়ানো গুজব, ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ কারণে একদিকে যেমন অপতথ্য প্রতিরোধে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা মিথ্যা তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং সাইবার বুলিং ঠেকাতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তথ্য যাচাই, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ফ্যাক্ট-চেকিং ও মিডিয়া বিশ্লেষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্টের মাধ্যমে ৮৬০টি ফ্যাক্ট-চেক, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি প্রতিবেদন।
তিনি আরও জানান, অপতথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের সক্ষমতা বাড়াতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় মোট ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিক। বর্তমান সরকারের সময়ে আয়োজিত ২০টি কর্মশালায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ৭৩৯ জন গণমাধ্যমকর্মী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এআই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা এবং ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে, যাতে সাংবাদিকরা প্রযুক্তির নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন।
তিনি জানান, বাংলাফ্যাক্ট নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করছে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি তথ্যের সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলাফ্যাক্ট। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি ফ্যাক্ট-চেকিং ম্যানুয়াল তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
জাতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব, অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply