আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ দারবিশ যুদ্ধক্ষেত্র ও কূটনৈতিক আলোচনায় ইরানের কথিত ‘বড় ধরনের সাফল্য’র জন্য দেশটির নেতৃত্ব ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এ অর্জনকে শুধু ইরানের নয়, বরং ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (প্রতিরোধ অক্ষ) এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে উল্লেখ করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে মুহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে হামাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করে। সফরকালে তারা ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সাম্প্রতিক সংঘাত, ফিলিস্তিন পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
প্রতিনিধিদলটি ইরানের নেতা, সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের সময় আয়াতুল্লাহ খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করছে।
বৈঠকে মুহাম্মদ দারবিশ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি ইরানের দীর্ঘদিনের সমর্থনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রশ্নে ইরানের অবস্থান তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
এ সময় হামাস প্রতিনিধিদল গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক সংকট এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিষয়টি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সামনে তুলে ধরে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে এবং সেখানে জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
হামাসের প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, চলমান সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সংঘাত-সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বেসামরিক মানুষের সুরক্ষায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানে আয়োজিত জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং পূর্ব জেরুজালেম (আল-কুদস)কে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তেহরান ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তার রাজনৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply