তিস্তা টিভি ডেস্ক
দেশজুড়ে আগামীকাল (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ১০ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশ্নপত্রের মান ও পরীক্ষার সমতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস ও নকল ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে শিক্ষা প্রশাসন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।
এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে আরও প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী। সারা দেশে মোট ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে ১৪৫টি পরীক্ষাকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে ৪০টি কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এতে প্রশ্নপত্র পরিবহন ও সংরক্ষণ, উত্তরপত্রের নিরাপত্তা, পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার, কেন্দ্রের শৌচাগার তল্লাশি এবং সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা নেই বললেই চলে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোনোভাবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রমাণিত হলে সেদিনের পরীক্ষা সারা দেশে স্থগিত করে নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সতর্ক করে বলেছেন, কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়নের ওপর।
সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই এবার শিক্ষা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
Leave a Reply