আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে সাম্প্রতিক জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ, আর এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সর্বশেষ হতাহতের তথ্য প্রকাশ করে ভেনেজুয়েলা সরকার। দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও বহু মানুষ এখনো ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে আছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমে এলেও উদ্ধারকারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস। অসংখ্য বহুতল ভবন, আবাসিক এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা ধসে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকাজও ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবন ধসের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ পচনের গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই দুর্গন্ধ তীব্র হচ্ছে। তবুও স্বজনদের খোঁজে অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপের পাশ ছাড়ছেন না। তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রিয়জনকে জীবিত পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন।
এমনই একজন মিরেল্লা হেরেরা। ছেলের ধসে পড়া বাড়ির সামনে কয়েক দিন ধরে অবস্থান করছেন তিনি। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে অসহনীয়। নিজেকে স্থির রাখতে বারবার পানি পান করছেন, হাঁটাহাঁটি করছেন, কিন্তু একটাই চিন্তা—তার ছেলে এখনো জীবিত আছে কি না।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৯ হাজার ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরদিন সংগ্রহ করা রাডার চিত্র বিশ্লেষণে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। তারা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ স্যাটেলাইটের উচ্চ রেজল্যুশনের রাডার তথ্য ব্যবহার করে এই প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছেন। গবেষকদের মতে, পরবর্তী বিশ্লেষণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো বলছে, ধ্বংসস্তূপের বিশাল বিস্তৃতি, ভারী যন্ত্রপাতির সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও সম্ভাব্য জীবিতদের খুঁজে বের করতে দিন-রাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয় নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
Leave a Reply