আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বিভিন্ন এলাকা। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ০। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল এল প্রোগ্রেসো থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ–দক্ষিণ-পশ্চিমে, ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর এলাকায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে কম্পনটি অনুভূত হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে উপকূলীয় কিছু এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলটি ছিল ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের গভীর অঞ্চলে, যা মেক্সিকোর বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার কারণ হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্পের সক্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। এরই মধ্যে কয়েকদিন আগে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা ‘ডাবলেট’ নামে পরিচিত একটি বিরল ভূতাত্ত্বিক ঘটনা।
ডাবলেট বলতে বোঝায়, খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় একই মাত্রার দুটি ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়া, যা ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইউএসজিএস-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৪ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার অন্তত ৯৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এতে ভূকম্পন কার্যক্রমে সাম্প্রতিক সময়ের সক্রিয়তা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড ভ্যালি এলাকায় ৫ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার উৎপত্তি মেনডোসিনো কাউন্টির প্রায় ৫ মাইল গভীর থেকে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনা ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটগুলোর সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় কম্পনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
Leave a Reply