ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের ম্যাচটি কেবল মেসির হ্যাটট্রিকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায় কোচ লিওনেল স্কালোনির আবেগঘন কান্না।
ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে লিওনেল মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ স্কালোনি। তার জায়গায় মাঠে নামানো হয় নিকো পাজকে। সেই মুহূর্তেই ডাগআউটে স্কালোনিকে চোখের পানি ধরে রাখতে না পারার দৃশ্য ধরা পড়ে। মেসি মাঠ ছাড়ার সময় কোচকে জড়িয়ে ধরেন, যা ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি মুহূর্ত। তবে টেলিভিশন সম্প্রচারে পুরো দৃশ্যটি স্পষ্টভাবে না আসায় পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি হয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি মেসির প্রশংসায় বলেন, “আমার কাছে কোনো ভাষা নেই। আমি তাকে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়েছি, জড়িয়ে ধরেছি এবং বলেছি আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। এর বাইরে আর কী বলব বুঝতে পারছি না। সে শুধু গোল করে না, পুরো দলের জন্য মানসিক শক্তি হিসেবে কাজ করে। যেদিন সে থাকবে না, সেদিন আমরা তাকে অনেক মিস করব।”
তার এই বক্তব্যে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি ম্যাচের প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিনের কোচ-খেলোয়াড় সম্পর্ক, সাফল্যের পথচলা এবং মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের আবেগও এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
এই ম্যাচে শুধু স্কালোনিই নয়, নিজেও আবেগে ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি। প্রথম গোলের পর তাকে কিছু সময়ের জন্য আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে কষ্ট করতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “এটা শুধু ফুটবল নয়। আমি কঠিন সময় পার করেছি, তবে আমার সতীর্থরা সবসময় পাশে ছিল।”
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসি ও স্কালোনির সম্পর্ক শুধু কোচ ও খেলোয়াড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জয় থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশন পর্যন্ত এই জুটি আর্জেন্টিনাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, যা মাঠের বাইরেও আবেগের বন্ধনে পরিণত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কালোনির কান্নার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে ফুটবলের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ অধ্যায়ের আবেগময় ইঙ্গিতও হতে পারে।
সব মিলিয়ে কানসাস সিটির সেই রাতটি শুধু একটি হ্যাটট্রিক বা একটি জয় নয়, বরং মেসি ও স্কালোনির সম্পর্ক, আবেগ এবং আর্জেন্টিনা ফুটবলের এক গভীর মানবিক অধ্যায়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply