ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী বার্তা দিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির প্রাণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে উত্তর আফ্রিকার দল আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে পরাজিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। আর এই জয়ের নায়ক এক ও অদ্বিতীয় লিওনেল মেসি, যার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। মাত্র ৪ মিনিটেই লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি। তবে ভিডিও সহকারী রেফারি (VAR) যাচাইয়ে অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়। এতে কিছুটা হতাশ হলেও থেমে থাকেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
১৬ মিনিটে নিজের স্বভাবসুলভ জাদুকরী দক্ষতায় ম্যাচের প্রথম বৈধ গোলটি করেন মেসি। বক্সের বাইরে সামান্য জায়গা পেয়েই বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পরাস্ত করেন তিনি। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে কানসাস সিটির স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থক।
গোল হজম করার পর পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে আলজেরিয়া। বেনতালেব, ফারেস শাইবি ও আনিস হাজ মুসার নেতৃত্বে কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি হলেও আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এমিলিয়ানো “এমি” মার্তিনেজ ছিলেন দুর্ভেদ্য। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মেসি। ৫৮ মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে দারুণ দক্ষতায় জাল খুঁজে নেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা। ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।
এরপর ৭৮ মিনিটের আগে ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত উপহার দেন মেসি। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষককেও পরাস্ত করেন তিনি। বল জালে জড়াতেই পূর্ণ হয় তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথম তিন গোল করার কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করার পরপরই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। সামনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর কথা বিবেচনা করে বিশ্রাম দেওয়া হয় দলনেতাকে। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন তরুণ প্রতিভা নিকো পাজ, যাকে ভবিষ্যতের আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল আরও বিশেষ। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল তার ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিরল অর্জন। একই সঙ্গে এটি ছিল তার ২৭তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড।
শুধু হ্যাটট্রিক নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই মেসির নেতৃত্ব, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং আক্রমণভাগ পরিচালনা ছিল অসাধারণ। তার অনুপ্রেরণায় আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে এবং শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনার জন্য এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। আর মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপের শুরুতেই ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে আর্জেন্টিনাকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই দাপুটে সূচনা সমর্থকদের মনে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে আরেকটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।
Leave a Reply