জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক আয়োজন করবে পাকিস্তান
Reporter Name
Update Time :
Monday, June 15, 2026
15 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে অর্জিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে পাকিস্তান।
সোমবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) জেনেভায় এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি, পারস্পরিক উত্তেজনা প্রশমন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও যৌথ রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শাহবাজ শরিফ জানান, এই শান্তি প্রক্রিয়ার পেছনে পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামাবাদে পূর্বে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক আলোচনার পর ধাপে ধাপে অগ্রগতির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির পথ সুগম হয়। তার ভাষায়, “এটি কেবল একটি চুক্তি নয়, বরং শান্তি ও কূটনীতির বড় অর্জন।”
জাতীয় পরিষদে তিনি আরও বলেন, টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ব নতুন একটি স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। এ অর্জনকে তিনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
এই প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার জন্য তিনি বিভিন্ন দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি চীন, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগে সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। তিনি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির ভূমিকাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সংসদে বক্তব্য দিয়ে এই কূটনৈতিক সাফল্যে সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিরোধী দল পিটিআই-এর এক নেতা সংসদে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, চূড়ান্ত স্বাক্ষর প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে না।
এই শান্তি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
Leave a Reply