ক্রীড়া ডেস্ক
২০০৭ সালের ৫ জুন, বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। কোচ আলফিও বাসিলের অধীনে সেই সময় কোপা আমেরিকার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল আর্জেন্টিনা। অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি দলে ছিলেন এক তরুণ লিওনেল মেসি, যিনি তখনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের জায়গা শক্ত করার পথে ছিলেন।
রবার্তো আয়ালা, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন ও হুয়ান রোমান রিকেলমের মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে খেলতে নেমে মেসি সেদিন আলজেরিয়ার রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে আলোচনায় আসেন। তার গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণাত্মক খেলা ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
সেই ম্যাচটি ছিল দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ ও গোলসমৃদ্ধ এক লড়াই। শুরুতেই মাত্র দেড় মিনিটে কার্লোস তেভেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। তবে আলজেরিয়া দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায়—৯ মিনিটে আনথার ইয়াহিয়া সমতা ফেরান এবং প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাজিদ বুগেরা গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে নাটকীয় মোড় আনে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির অনুপ্রেরণায় দলটি আক্রমণ বাড়িয়ে দেয় এবং দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান মেসি নিজেই, এরপর এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। পরে ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করেন মেসি। শেষ দিকে আলজেরিয়া আরেকটি গোল করলেও আর্জেন্টিনা ৪-৩ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর জয় পায়।
প্রায় দুই দশক পর আবারও একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনায় ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। এবার প্রীতি ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দেখা হতে পারে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। অভিজ্ঞতা ও তরুণদের মিশেলে গড়া দলটি এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে আলজেরিয়া—‘ডেজার্ট ফক্সেস’ নামে পরিচিত এই দলটি—দ্রুতগতির আক্রমণ, শক্তিশালী কাউন্টার অ্যাটাক এবং লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত, যা বড় দলগুলোর জন্য সবসময়ই চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
ফলে দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবারও এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা।
Leave a Reply