তিস্তা টিভি ডেস্ক
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) Benazir Ahmed-কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের United Arab Emirates-এর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় এই গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পরই প্রশ্ন উঠেছে— তাকে কীভাবে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি দুর্নীতির মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকার সময় তিনি বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন, যার পরিমাণ ৭৬ কোটি টাকারও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাসপোর্ট জালিয়াতি ও বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল। এর ভিত্তিতেই আন্তর্জাতিকভাবে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। সেই প্রক্রিয়াই এখন শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
সরকারি সূত্র বলছে, প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদনের পর তা দ্রুত কূটনৈতিক মাধ্যমে Interpol ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পাঠানো হবে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দেশে ফেরার পর তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হবে এবং চলমান মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক ছিলেন। তার দায়িত্বকালেই র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যার প্রভাব তার নামেও আসে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
Leave a Reply