ক্রীড়া ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই (হোয়াইটওয়াশ) করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে টাইগাররা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করলেও শরীফুল ইসলামের আগুনঝরা বোলিংয়ে হঠাৎই চাপে পড়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।
রোববার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। প্রথম ওভারেই ফিরে যান ওপেনার সৌম্য সরকার। আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সৌম্য এদিন মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়লেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। তামিম ১৯ এবং শান্ত ২৪ রান করে আউট হন।
৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে উদ্ধার করেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। চতুর্থ উইকেটে তারা ১০৯ বলে ৯৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের রানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান।
দারুণ ছন্দে থাকা লিটন কুমার দাস ৭৮ বলে ৫৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কার মার। অন্যপ্রান্তে তাওহীদ হৃদয়ও খেলেন পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী এক ইনিংস। তিনি ৮৮ বলে ৮৩ রান করেন, যেখানে ছিল ৮টি চারের মার।
মধ্য ওভারে রান তোলার গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। হৃদয়ের সঙ্গে জুটি গড়ে তিনি দলের স্কোর দ্রুত বাড়িয়ে নেন। দুজন মিলে ৮১ বলে ৯০ রানের কার্যকর জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। তার ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ১টি ছক্কা।
নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৭৪ রান, যা মিরপুরের উইকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার। উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র কয়েক ওভারে ৪০ রান তুলে ফেলেন তারা। দেখে মনে হচ্ছিল সহজেই লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে সফরকারীরা।
তবে ম্যাচে নাটকীয় মোড় আনেন বাংলাদেশি পেসার শরীফুল ইসলাম। ইনিংসের এক গুরুত্বপূর্ণ ওভারে মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটারের উইকেট। প্রথমে ১২ বলে ২১ রান করা ওপেনার জশ ইংলিসকে ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ইংলিসের ইনিংসে ছিল ৪টি চারের মার।
এরপর ক্রিজে আসা ম্যাট রেনশকে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড করে উল্লাসে মাতেন শরীফুল। টানা দুই আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশ।
শরীফুলের জোড়া আঘাতের পর ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে এখন বোলারদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দিকে তাকিয়ে রয়েছে টাইগার সমর্থকরা।
বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু ম্যাচ জয় নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়া। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে শুরুতেই বড় ভূমিকা রেখে আলোচনায় উঠে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলাম।
Leave a Reply