আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ন্যায়বিচার চাইলেন রামিসার বাবা
Reporter Name
Update Time :
Tuesday, June 2, 2026
14 Time View
তিস্তা টিভি ডেস্ক
আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে। এ মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তিনি এ দাবি জানান। তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এদিন মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশীরা। মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় তারা একে একে সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গেছে।
সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আনা হয়। পরে তাদেরকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এর আগে সোমবার আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। একই দিনে মামলার বাদীসহ মোট ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করে।
এরও আগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমে নিয়ে যায়।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে সন্দেহজনকভাবে স্বপ্নার কক্ষের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান তিনি। এতে পরিবারের সন্দেহ আরও গভীর হয়।
এ ঘটনায় ২০ মে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
Leave a Reply