আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই তিনি এবার বিতর্কিত Abraham Accords–এ অন্তত ছয়টি মুসলিম দেশের যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সমঝোতা ব্যর্থ হলে আরও বড় সংঘাতের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৫ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ইতিবাচক ও গঠনমূলক” পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এটি সবার জন্য ভালো একটি চুক্তি হতে পারে। আর যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিতে পারে।”
এর আগে শনিবার মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরান সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে কয়েকটি মুসলিম দেশের একযোগে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়া উচিত। তিনি বিশেষভাবে Saudi Arabia, Qatar, Pakistan, Turkey, Egypt এবং Jordan–এর নাম উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও জানান, United Arab Emirates ও Bahrain ইতোমধ্যে এই চুক্তির অংশ হয়েছে এবং নতুন দেশগুলো যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে “ঐতিহাসিক পরিবর্তন” আসতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি বিষয়—তিনি পুরো বক্তব্যে সরাসরি Israel–এর নাম উল্লেখ করেননি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হয়তো শুধু পুরোনো আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নয়, বরং আরও বড় আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়। সেই সময় এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হলেও, ফিলিস্তিন ইস্যু উপেক্ষার অভিযোগে এটি ব্যাপক বিতর্কেরও জন্ম দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব বা কাতারের মতো দেশ যদি এই উদ্যোগে যোগ দেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তবে Iran–এর সঙ্গে সম্পর্ক, গাজা যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা কি সত্যিই শান্তির পথ খুলবে, নাকি এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক চাপ ও জোট রাজনীতির সূচনা করবে।
Leave a Reply