আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিংয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সময় তোলা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অনুপস্থিত থাকাকালে ট্রাম্প টেবিলে রাখা একটি নোটবুক বা ফোল্ডারের দিকে ঝুঁকে তাকাচ্ছেন। মুহূর্তেই ওই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা, মিম ও ট্রল।
ঘটনাটি ঘটে ট্রাম্পের চীন সফরের দ্বিতীয় দিন, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে)। ওই দিন বেইজিংয়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়িক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কৌতুক করে লেখেন, ট্রাম্প নাকি শি জিনপিংয়ের ব্যক্তিগত ডায়েরি পড়ার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ দাবি করেন, তিনি হঠাৎ করেই মান্দারিন ভাষা বুঝে ফেলেছেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক ব্যবহারকারী লেখেন, ফোল্ডারের সব লেখা ছিল মান্দারিনে, তাই বিষয়টি আরও রহস্যময় মনে হয়েছে।
অনেকে আবার ভিডিওটিকে ‘ভিডিও অব দ্য ডে’ হিসেবে শেয়ার করেন। সেখানে মন্তব্য করা হয়, শি জিনপিং উঠে যাওয়ার পর ট্রাম্প তার নোটবুকের দিকে তাকান। তবে কিছু ব্যবহারকারী এটিকে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনাও করেন। কেউ কেউ ট্রাম্পকে নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, এটি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী হতে পারে।
তবে পরবর্তীতে ঘটনাটির ভিন্ন ব্যাখ্যাও সামনে আসে। অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করেন, ভিডিওটি সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে ছড়ানো হয়েছে। তাদের মতে, ট্রাম্প যে ফোল্ডারের দিকে তাকাচ্ছিলেন সেটি আসলে তার নিজেরই ছিল এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দাপ্তরিক সিলও দেখা যাচ্ছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো ভিডিও প্রসঙ্গ ছাড়া কেটে ছড়ানো হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম নিউজউইক জানায়, মূল ফুটেজে দেখা যায় শি জিনপিং তার আসন থেকে উঠে যাওয়ার সময় ট্রাম্প টেবিলের একটি ফোল্ডারের দিকে ঝুঁকে তাকান। তবে সেটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে অনলাইনে ভিন্ন ধারণা তৈরি করা হয়েছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা আইভেরিফাই পাকিস্তানের বরাতে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনও জানিয়েছে, ভাইরাল দাবিটি বিভ্রান্তিকর। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফোল্ডারটি আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজস্ব নথি ছিল, যা দাপ্তরিক সিল দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়। ফলে পুরো ঘটনাটি মূলত একটি ভুল ব্যাখ্যা ও প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন ভিডিওর ফলেই বিতর্কে রূপ নেয়।
Leave a Reply