ডেস্ক রিপোর্ট
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা। আগামী ১১ জুন পর্দা উঠবে ফুটবলের মহারণের, আর ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এক মাসেরও বেশি সময়ব্যাপী এই বিশ্ব উৎসব। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ, যার আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও উৎসবের নাম। আর তাই সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনাও তত বাড়ছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন থেকেই চলছে প্রিয় দল নিয়ে হিসাব-নিকাশ, তর্ক-বিতর্ক আর ভবিষ্যদ্বাণী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য স্কোয়াড, তারকা খেলোয়াড়দের ফর্ম, ম্যাচ সূচি ও কৌশল নিয়ে চলছে জমজমাট আলোচনা।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ হওয়ায় দলটিকে ঘিরে বাড়তি আবেগ কাজ করছে সমর্থকদের মধ্যে। আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ১৭ জুন। মেসির পাশাপাশি তরুণ তারকাদের পারফরম্যান্স নিয়েও চলছে ব্যাপক আলোচনা।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মাঠে নামবে ১৪ জুন। নতুন প্রজন্মের আক্রমণভাগ, গতি ও স্কিল নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনায় সেলেসাওরা। ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঠবে তাদের হাতে।
ইউরোপিয়ান শক্তিধর স্পেন ১৫ জুন তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়া দলটিকে এবারের অন্যতম শিরোপা প্রত্যাশী হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এ ছাড়া বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স ১৬ জুন এবং চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ১৪ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বলে প্রাথমিক সূচিতে জানা গেছে। শক্তিশালী স্কোয়াড ও অভিজ্ঞ কোচিং স্টাফের কারণে দল দুটিকেও সম্ভাব্য ফেবারিটের তালিকায় রাখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন, বন্ধুদের আড্ডা, চায়ের দোকানে ফুটবল বিতর্ক—সব মিলিয়ে জমে উঠছে বিশ্বকাপের আমেজ।
বাজারে বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের জার্সি, পতাকা ও ফুটবল সামগ্রীর বিক্রি। অনেক সমর্থক ইতোমধ্যে নিজেদের বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও রাস্তায় প্রিয় দলের পতাকা টাঙাতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহ আবারও চোখে পড়ছে।
ফুটবলপ্রেমীদের মতে, বিশ্বকাপ মানেই এক অন্যরকম অনুভূতি—যেখানে ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশের সীমা পেরিয়ে কোটি মানুষ এক সুতোয় গাঁথা হয় ফুটবলের ভালোবাসায়। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন থেকেই শুরু হয়েছে সেই মহা উৎসবের অপেক্ষা।
Leave a Reply