জেলা প্রতিনিধি
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার অমর সৃষ্টি, গান, সাহিত্য ও দর্শনের মধ্য দিয়ে যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে রবীন্দ্র কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। তার সৃষ্টি শুধু বাঙালির সম্পদ নয়, সমগ্র বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। মানবতা, প্রেম, প্রকৃতি, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার যে বাণী তিনি রেখে গেছেন, তা আজও সমাজকে আলোকিত করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে এ ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের মাঝে রবীন্দ্রচর্চা বৃদ্ধি পেলে মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীল মনন গড়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমএম মুহিদ, জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম আব্দুল্লাহ খান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপ-উপাচার্য সুমন কান্তি বড়ুয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মঞ্জুর।
বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণশক্তি। তার রচনা মানুষের চেতনা, মানবিকতা ও নান্দনিক বোধকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও নাট্যাংশ মঞ্চস্থ করা হয়। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
উৎসবকে ঘিরে শাহজাদপুরের কাচারিবাড়ি এলাকায় দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে গ্রামীণ হস্তশিল্প, বই ও লোকজ ঐতিহ্যভিত্তিক বিভিন্ন স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
Leave a Reply