1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
September 2, 2026, 1:41 pm

তিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় কুয়েত

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 18, 2026
  • 21 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে পাকিস্তান। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি দুই দেশ।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে ২০২৩ সাল থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়ে সীমিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। তবে নতুন উদ্যোগটি আরও বড় পরিসরের হতে পারে। কুয়েত এমন একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে আগ্রহী, যা পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতার আদলে তৈরি হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানান, কুয়েতের আগ্রহের তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানি সেনা প্রশিক্ষণ ও মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রযুক্তি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়। তবে পাকিস্তান কতটা বিস্তৃত সহযোগিতায় যেতে প্রস্তুত, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, কুয়েতের প্রস্তাবে সামরিক সহযোগিতার বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পাকিস্তান বিবেচনা করছে না।

তিনি বলেন, “কুয়েতের চাহিদার তালিকা অনেক বিস্তৃত। তবে এই মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য সেনা পাঠানোর বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনার অংশ নয়।”

মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও জানিয়েছে, পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটা, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসব আলোচনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় থাকা বিষয়গুলো নিয়ে চারজন পাকিস্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের একজন সূত্রের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তারা মন্তব্য করেছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সম্ভাব্য এই সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তেল ও জ্বালানির মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেত্রে কুয়েতের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের জন্য পাকিস্তানের সামরিক দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আকর্ষণীয়, অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য কুয়েতের জ্বালানি সম্পদ ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে এই আলোচনা এগোচ্ছে। তবে আঞ্চলিক রাজনীতি, উপসাগরীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বড় শক্তিগুলোর অবস্থানই শেষ পর্যন্ত চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV