ক্রীড়া ডেস্ক
রক্ষণভাগে দুর্দান্ত সংগঠিত প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সহজ কোনো ম্যাচের আশা করেনি ফ্রান্স। ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইনান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেটিই দেখা গেল। দীর্ঘ সময় ধরে লাতিন আমেরিকার দলটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে গোলশূন্য আটকে রাখলেও শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচের আগে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও খেলা নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়। তবে দুই দলকেই ভুগিয়েছে ফিলাডেলফিয়ার তীব্র গরম। শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকে ফ্রান্স। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে পুরো ম্যাচজুড়ে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, খেলার গতি নষ্ট করা এবং শরীরী ফুটবলের মাধ্যমে ফ্রান্সকে ছন্দহীন রাখার চেষ্টা করে তারা। একাধিক কঠিন ফাউলের কারণে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দিতে এগিয়ে আসেন ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল এবং তাদের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ফরাসিদের বারবার হতাশ করে। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। ম্যাচের ৬১তম মিনিটে আক্রমণে নতুন গতি আনতে ব্র্যাডলি বারকোলার বদলে দেজিরে দুয়েকে মাঠে নামান দেশম। এই পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
৭০তম মিনিটে দুর্দান্ত ড্রিবলিং করে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন দুয়ে। কয়েকজন ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে ফ্রান্সকে পেনাল্টি দেন তিনি। স্পটকিকে দায়িত্ব নেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। স্বভাবসুলভ ধীর রান-আপের পর ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোল করেন এমবাপে, যা তাকে লিওনেল মেসির সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল তার ১৯তম গোল। সর্বকালের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতাদের তালিকায় এখন তিনি মেসির ২০ গোলের ঠিক এক ধাপ পেছনে অবস্থান করছেন।
গোল করার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধে একক প্রচেষ্টায় আরেকটি গোলের সুযোগ নষ্ট করেন এমবাপে। পরে উসমান দেম্বেলের সঙ্গে সংঘর্ষের পরও তিনি খেলা চালিয়ে যান। মানু কোনের কর্নার থেকে নেওয়া জোরালো শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। যোগ করা সময়েও এমবাপের নেওয়া পরপর দুটি শক্তিশালী শট রুখে দিয়ে নিজের নৈপুণ্যের প্রমাণ দেন তিনি। তবে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়েকে হার এড়াতে সাহায্য করতে পারেনি।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপে আবারও বড় মঞ্চে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করলেন। তার একমাত্র গোলেই ফ্রান্স টানা আরেকটি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।
শেষ আটের লড়াইয়ে আগামী ১০ জুলাই মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে সেখানে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকবে দেশমের শিষ্যরা।
Leave a Reply