ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও কাফ মাসলের চোটে আক্রান্ত এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এখনও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছেন। ফলে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা ও ধোঁয়াশা আরও কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
তবে এবার আশার আলো দেখালেন ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। শনিবার তিনি জানান, নেইমারের চোট ধীরে ধীরে সেরে উঠছে এবং তিনি দ্রুতই পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার পথে রয়েছেন। এমনকি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও তাকে পাওয়া যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন এই ইতালিয়ান কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি সে খুব শিগগিরই ফিরে আসবে। উদ্বোধনী ম্যাচে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে দলে পাওয়া যেতে পারে।”
গণমাধ্যমে এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, নেইমারকে মাঠের বাইরে অন্তত তিন সপ্তাহ থাকতে হতে পারে। তবে কোচের ভাষ্যমতে, ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড নিবিড়ভাবে ফিটনেস রিহ্যাব চালিয়ে যাচ্ছেন।
বার্সেলোনা ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁর সাবেক এই তারকা বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসে খেলছেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিল জাতীয় দলের আসন্ন দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে বিশ্রামে রাখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
দলীয় সূচি অনুযায়ী, রোববার মারাকানায় পানামার বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর সোমবার দলটি নিউ জার্সিতে ক্যাম্প করবে। ৬ জুন ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শেষ করবে সেলেসাওরা।
আনচেলত্তির ঘোষিত ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে নেইমারের জায়গা পাওয়া অনেককেই চমকে দিয়েছে। দীর্ঘদিন চোট ও ফর্মহীনতার কারণে তিনি জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন প্রায় তিন বছর। তবুও অভিজ্ঞতা ও বড় ম্যাচের সক্ষমতার কারণে তাকে দলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেইমার এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। জাতীয় দলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা ৭৯। এটি হতে যাচ্ছে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ, যেখানে তার ওপরই আবারও বড় প্রত্যাশা রাখছে ব্রাজিল সমর্থকরা।
সব মিলিয়ে চোট নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কোচের সাম্প্রতিক মন্তব্য ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a Reply