ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এর জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক মূল্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছেড়ে তিনি ফ্লোরিডার ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন। তখন তার চুক্তি ছিল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল বেতন এবং বার্ষিক গ্যারান্টিযুক্ত আয় ২ কোটি ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৭ ডলার।
মেসির আগমনের পর থেকেই এমএলএসে দেখা দিয়েছে অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাস। বেড়েছে দর্শক, সম্প্রচার আয়, টিকিট বিক্রি এবং জার্সির চাহিদা। মাঠের পারফরম্যান্সেও তিনি দারুণ সফল—এখন পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির হয়ে ৬৪ ম্যাচে করেছেন ৫৯ গোল, চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে ৯ গোল এবং গত মৌসুমে ২৯ গোল করে হয়েছেন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলেই তার আয়ও পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। গত মৌসুমে নতুন চুক্তির পর মেসির বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়, যা এমএলএসের অনেক ক্লাবের পুরো স্কোয়াডের বেতনের চেয়েও বেশি।
এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ মৌসুমের বেতন তালিকা অনুযায়ী, মেসির মোট গ্যারান্টিযুক্ত পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ ডলার (প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা), আর মূল বেতন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অবাক করা বিষয় হলো—লিগের ৩০টি দলের মধ্যে ২৮টি দলের পুরো স্কোয়াডের মোট বেতনের চেয়েও বেশি আয় করছেন একাই মেসি।
এপি’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এমএলএসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড় দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিনের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি আয় করছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ইন্টার মায়ামির বেতন ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০২৫ মৌসুমে ক্লাবটির বেতন ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়কারী ক্লাব, আর ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন সবচেয়ে কম ব্যয় করছে।
২০২৩ সালে এমএলএসে যোগ দেওয়ার সময় মেসির বেতন কাঠামো ছিল তুলনামূলক কম, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব ও বাণিজ্যিক মূল্য বেড়েছে বহুগুণ। ২০২৮ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তির মাধ্যমে তিনি ইন্টার মায়ামিতে দীর্ঘমেয়াদে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেসির আগমন শুধু একটি খেলোয়াড়ের স্থানান্তর নয়, বরং পুরো এমএলএসের ব্র্যান্ড ভ্যালু বদলে দেওয়ার ঘটনা। তার উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
Leave a Reply