আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা চুক্তিতে আসার সময়সীমা দিয়েছেন এবং না হলে ইরানের অবকাঠামোতে বিধ্বংসী হামলার হুমকি দিয়েছেন, তবে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো নমনীয়তার ইঙ্গিত দেয়নি; বিশেষজ্ঞদের মতে সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ইরান সাধারণ প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে না গিয়ে ‘লেয়ার্ড এসিমেট্রি’ কৌশল অনুসরণ করবে যেখানে যুদ্ধের খরচ এতটাই বাড়ানো হবে যাতে বৈশ্বিক অর্থনীতি নিজেই চাপে পড়ে যায়, আর এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি অবরোধ বা উত্তেজনা বাড়লে ইরান পাঁচটি বড় বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিতে পারে— প্রথমত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে হরমুজ প্রণালিতে স্মার্ট মাইন, ড্রোন ও জিপিএস জ্যামিং ব্যবহার করে পুরো রুটকে ‘কিল জোন’ বানাতে পারে, যার ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং পাশাপাশি পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ফাইবার অপটিক ক্যাবল কেটে দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও তথ্য আদান-প্রদান ভেঙে দিয়ে ‘ডিজিটাল আরমাগেডন’ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে; দ্বিতীয়ত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের তেল স্থাপনা, রিফাইনারি ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্য বানাতে পারে, যার ফলে উপসাগরীয় বড় শহরগুলোতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পানি সংকট ও জ্বালানি অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে এবং একই সঙ্গে ‘আমরা তেল না বিক্রি করতে পারলে কেউ পারবে না’ নীতিতে পুরো আঞ্চলিক তেল অবকাঠামো অকার্যকর করার চেষ্টা করতে পারে; তৃতীয়ত সাইবার যুদ্ধের মাধ্যমে মার্কিন বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে এবং নৌ চলাচলে জাহাজের জিপিএস সিগন্যাল পরিবর্তন করে ভুল পথে পরিচালিত করে সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে; চতুর্থত আঞ্চলিক ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ ব্যবহার করে ইরাক ও সিরিয়া থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট ও ড্রোন হামলা, ইয়েমেনের হুথিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের নৌপথ অচল করা এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মাধ্যমে ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে চাপ সৃষ্টি করার মতো একযোগে বহুমুখী আক্রমণ চালাতে পারে; পঞ্চমত চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশের জাহাজকে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দিয়ে বা আলাদা সুবিধা দিয়ে আন্তর্জাতিক জোটে বিভাজন সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে, যাতে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সমর্থন ভেঙে পড়ে; সব মিলিয়ে ইরানের মূল কৌশল সরাসরি সামরিক জয় নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে এতটাই ব্যয়বহুল, জটিল ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর করে তোলা যাতে পুরো সিস্টেমেই চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিশেষজ্ঞদের মতে এই ডেডলাইন ঘিরে পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক রূপ নিতে পারে।
Leave a Reply