আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার দাবি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে তেহরান। মুম্বাইয়ে ইরানের দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা বর্তমানে চলছে না। বরং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই তেহরানের দৃষ্টিতে অযৌক্তিক।
একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এ ধরনের কোনো উদ্যোগে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা নেই। অর্থাৎ ইসলামাবাদ যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছে তেহরান। এতে করে দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসাক দার দাবি করেছেন, তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। তাদের মতে, সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের জন্য ইসলামাবাদ একটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া রয়েছে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তেহরান তার জবাবও দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরোক্ষ যোগাযোগ থাকলেও সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও শর্তের কারণে তা বাস্তবায়ন এখনো কঠিন হয়ে রয়েছে।
Leave a Reply