আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যুক্তরাজ্য সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা রাখে না। তিনি বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়” এবং যুক্তরাজ্য কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্রিটিশ নাগরিকদের সুরক্ষা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
স্টারমার আরও জানান, হরমুজ প্রণালী সচল রাখার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো সম্ভব। তবে সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন হিসেবে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান মূলত একটি সতর্ক নীতি প্রকাশ, যা কূটনৈতিক ব্যালান্স বজায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর উপস্থিতি থাকলেও, ব্রিটিশ সেনাবাহিনী সরাসরি সংঘর্ষে জড়ানো থেকে বিরত থাকবে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও অস্থির হতে পারে। যুক্তরাজ্য এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি দুটোই বজায় রাখছে। এমন অবস্থায়, কিয়ার স্টারমারের বার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে একটি শান্তিশীল ও সাবধানী নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই নীতির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য চায়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং ব্রিটিশ নাগরিক ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তাতে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।
Leave a Reply