পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ Strait of Hormuz-এর কাছে মাইন স্থাপনকারী ইরানের ১৬টি নৌযান ধ্বংসের দাবি করেছে United States Central Command (সেন্টকম)। এই দাবি মঙ্গলবার (১০ মার্চ) করা হয়।
একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন রাখে, তা অবিলম্বে সরাতে হবে। এর আগে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ১০টি নিষ্ক্রিয় মাইনবাহী নৌযান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া তার পোস্টে তিনি লিখেছেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন রাখে, আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরানো হোক,” যদিও তাদের কাছে সরাসরি কোনো তথ্য নেই।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, তেহরান যদি নির্দেশ অমান্য করে, তাহলে তারা সামরিক পরিণতির মুখে পড়বে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো নৌকা বা জাহাজ যদি মাইন স্থাপনের চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তা ‘স্থায়ীভাবে ধ্বংস’ করতে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে যা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।
পরে সেন্টকম তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করে। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ধ্বংস করা ইরানি নৌযানগুলোকে ধারণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে কিছু জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলোতে মাদক পাচার হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এসব হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা ইরানের মাইনবাহী নৌযান এবং মাইন সংরক্ষণাগারে হামলা চালাচ্ছে। এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের উপকূল ঘেঁষা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
উপসংহারে, হরমুজ প্রণালি এখনো উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থেকে গেছে, যেখানে মাইন স্থাপন ও ধ্বংসের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং তেলের গ্লোবাল সরবরাহকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।
Leave a Reply