ডেস্ক রিপোর্ট:
চীন বর্তমানে ইরানের প্রতি সরাসরি সামরিক সমর্থন প্রদানের পরিবর্তে জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে, এমন মনোভাব আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা প্রকাশ করেছেন। যদিও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতি বেইজিং তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, তবুও চীন নিজের স্বার্থে ইরানের পক্ষে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিচ্ছে না।
চীনের স্ট্র্যাটেজিক চিন্তা হলো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানি সুরক্ষায় নিজের গুরুত্বকে নিশ্চিত করা। চীন ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ভূমিকা বাড়িয়েছে এবং ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় কাজ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ইরানকে কৌশলগত অংশীদার হিসাবে বিবেচনায় রাখলেও সরাসরি সামরিক বা রাজনৈতিক সংঘাতে অংশ নিতে আগ্রহী নয়। তার বদলে বেইজিং তেলের আমদানি স্থিতিশীল রাখা, বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিত্বকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা চীনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি দেশটির অর্থনীতির বড় অংশ চালায়। বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশগুলোর একজন হিসেবে চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল, এবং এই কারণে ইরান সম্পর্কে কূটনৈতিক ও জ্বালানি সংক্রান্ত উদ্দেশ্য তার নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এভাবে চীন ইরানকে সরাসরি সমর্থন না দিয়ে বরং জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনীতি চ্যানেলে তার স্বার্থ অর্জনের চেষ্টা করছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
Leave a Reply