নিজস্ব প্রতিনিধি,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, গত ৫৪ বছরে দেশের মানুষ নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙলের শাসন দেখেছে, এবার দাঁড়িপাল্লাকে দেখার সময় এসেছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে সবার আগে দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলেই দেশের অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে নীলফামারী-০২ আসন (সদর) থেকে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পৌর জামায়াতের আমির অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতা দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে নির্বাচনি সভায় এসে বলছেন, তারা পালিয়ে যাননি। অথচ জনগণ সব জানে। পালিয়ে গিয়ে আবার ফিরে এসে মিথ্যা কথা ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ এখন সচেতন হয়ে উঠেছে এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেবে।
নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জেলা জামায়াতের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের যুবসমাজ এখন ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে যুবকরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, একটি দলের গত দেড় বছরের প্রায় ৫০০ দিনের শাসনামলে তাদের নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বে ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ হয়েছে এবং প্রায় ২০০ মানুষ নিহত হয়েছে। যারা নিজেদের মধ্যেই নিরাপদ নয়, তারা দেশকে কীভাবে নিরাপদ রাখবে—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জনগণকে ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে হলে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন পৌর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ পাটোয়ারী। সমাবেশে জেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
Leave a Reply