তিস্তা টিভি প্রতিবেদন
পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (সৌদি আরব সময়) পর্যন্ত ২৫ হাজার ৩৭৭ জন হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এ সংখ্যা চলতি বছরের মোট হজযাত্রীর প্রায় ৩২ শতাংশ।
ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছেন ২ হাজার ৫০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ২২ হাজার ৮৭৭ জন। অবশিষ্ট হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
ফিরতি যাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে সৌদি এয়ারলাইন্স। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৯ হাজার ৭৩০ জন হাজিকে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭ হাজার ৮৯৬ জন এবং ফ্লাইনাস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে পরিবহন করেছে। অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে আরও ৫১ জন হাজি দেশে ফিরেছেন।
এ পর্যন্ত মোট ৬২টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি এয়ারলাইন্স ২৪টি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৯টি এবং ফ্লাইনাস ১৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, এবার হজ ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, অধিকাংশ হাজি নিরাপদে দেশে ফিরেছেন এবং বাকিদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়াও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত হাজিদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবার বিষয়েও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
হজ মৌসুমে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মেডিকেল টিম ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে বাংলাদেশি হাজিদের জন্য ৫৫ হাজার ২৮৬টি চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সহায়তা দিতে আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৫ হাজার ১০০টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ২৫১ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ১৭ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে মক্কা ও জেদ্দার কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
এদিকে, চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৪৫ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী। তাদের অধিকাংশই মক্কা ও মদিনায় ইন্তেকাল করেছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ফেরা হাজিদের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত অবশিষ্ট হাজিদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
Leave a Reply