রামিসার মার অভিযোগ বার বার ডাকলেও দরজা খোলেনি স্বপ্না
Reporter Name
Update Time :
Tuesday, June 2, 2026
18 Time View
তিস্তা টিভি প্রতিবেদন
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পল্লবীর আলোচিত আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) আদালতে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা পারভীন আক্তার। মামলার বিচারক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে তিনি ঘটনার দিন ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরেন।
পারভীন আক্তার জানান, ঘটনার দিন তিনি বাসায় রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রান্না প্রায় শেষের দিকে এসে হঠাৎ লক্ষ্য করেন তার ছোট মেয়ে রামিসা বাসায় নেই। বড় মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, রামিসা তার সঙ্গে ছিল না। এরপরই তিনি আতঙ্কিত হয়ে আশপাশে খোঁজ শুরু করেন।
তিনি আদালতে আরও বলেন, রান্নার সময় তিনি একটি শিশুর চিৎকারের শব্দ শুনেছিলেন। তখন সেটিকে পাশের ফ্ল্যাট বা ভবনের অন্য কোনো শিশুর আওয়াজ মনে করে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু পরে মেয়েকে না পেয়ে সেই শব্দের বিষয়টি মনে পড়ে এবং সন্দেহ তৈরি হয়।
খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ভবনের বিভিন্ন অংশ—নিচতলা, একটি অফিস কক্ষ ও ব্যাচেলর বাসাসহ—সব জায়গায় খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পাননি তারা। পরে তৃতীয় তলায় পাশের একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি, যা তার উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তিনি আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ওই ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে তিনি বারবার দরজা খুলে দিতে অনুরোধ করেন। তিনি “স্বপ্না” নামের একজনকে উদ্দেশ করে বারবার ডাকলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আশপাশের লোকজনও দরজায় ধাক্কা দিলেও কেউ দরজা খোলেনি বা সাড়া দেয়নি।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের চাপ ও উপস্থিতি বাড়ার পর দরজা খোলা হলে ভেতরে রক্তের দাগ দেখতে পান তারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় বলে আদালতে জানান তিনি।
জবানবন্দিতে পারভীন আক্তার আরও বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তার উপস্থিত লোকজনকে জানিয়েছিল যে, সোহেল রানা নামের একজন ব্যক্তি ঘটনাটি ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমে এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
জেরার সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জব্দ তালিকায় থাকা স্বাক্ষর নিজের বলে নিশ্চিত করেন এবং আদালতে উপস্থিত স্বপ্না আক্তারকে মামলার আসামি হিসেবে শনাক্ত করেন।
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন, ফলে কিছু সময়ের জন্য আদালতের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে বিচারক ও আইনজীবীরা তাকে ধৈর্য ধরে জবানবন্দি শেষ করতে সহায়তা করেন।
এর আগে মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে শিশুটির বাবা আদালতে সাক্ষ্য দেন। ভুক্তভোগীর বড় বোন শিশু হওয়ায় তার সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
Leave a Reply