1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
September 6, 2026, 4:32 pm

যু/দ্ধে/র দামামা, তবু আলোচনার দরজা খোলা

Reporter Name
  • Update Time : Monday, February 2, 2026
  • 173 Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক:

হুমকি ও যুদ্ধ প্রস্তুতির মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান গুরুত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তিনি আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগে রাজি হবে। একই সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে সামরিক হামলার আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।

ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার বন্দোবস্ত এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি জানিয়েছেন, যুদ্ধের কৃত্রিম আবহের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার একটি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। তবে সেই আলোচনার রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

এদিকে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে চান না ট্রাম্প। বরং দ্রুত সময়ের মধ্যে সীমিত পরিসরের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। যুদ্ধজাহাজ ও সেনারা এমন অবস্থানে রয়েছে, যেখান থেকে ইরানে দ্রুত হামলা চালানো সম্ভব।

ট্রাম্প নিজেও ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান সামরিক সংঘাতের চেয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে বেশি আগ্রহী। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে কী ঘটতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে একটি বিশাল নৌবহর পাঠানোর কথাও নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো হামলা মেনে নেবে না। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান হামলার সূচনাকারী নয়; কিন্তু আক্রান্ত হলে সর্বোচ্চ জবাব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে চুক্তির জন্য একাধিক কঠোর শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করা, সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম তৃতীয় দেশে হস্তান্তর, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতি গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা। তবে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে কিছু ছাড় দিতে পারে বলে ধারণা করা হলেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেবে না বলে বিশ্লেষকদের মত।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত আলোচনা না সংঘাতের দিকে গড়ায়—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা অঞ্চল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV