1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
September 6, 2026, 4:31 pm

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নীতি, আগ্রাসনে ভূমি ব্যবহার নয়

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, January 28, 2026
  • 143 Time View

তিস্তা নিউজ ডেস্ক:

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে দেশটি নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। এ খবর নিশ্চিত করেছেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএর বরাতে রয়টার্স। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স এই আশ্বাস দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে, যা দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ফোনালাপে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে যে কোনো বিরোধ সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে। তিনি আরও জোর দেন, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা কারও জন্যই কল্যাণকর নয় এবং সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মাধ্যমের মাধ্যমে।

ফোনালাপের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, পেজেশকিয়ান তেহরানের প্রতি মুসলিম দেশগুলোর সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে চালানো মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাত প্রতিরোধে সহায়ক যেকোনো উদ্যোগে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের অবস্থান প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করার অনুমতি দেবে না। এই দুই দেশের অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এটি ব্যবহার না করার সুযোগ হবে। সোমবার রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এই মোতায়েন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং মার্কিন বাহিনী রক্ষায় কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু হয়। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অতীতেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধসরঞ্জাম মোতায়েন করত, যা মূলত প্রতিরক্ষামূলক ধারা বজায় রাখত। তবে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি জড়ো করেছিল।

বিশ্লেষকরা এই ফোনালাপকে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। সৌদি আরবের ভূখণ্ড ব্যবহার না করার স্পষ্ট অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত প্রতিরোধে একটি শান্তির বার্তা বহন করছে।

এই পদক্ষেপ কেবল সৌদি আরবের নীতিনির্ধারণকেই তুলে ধরছে না, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে আসার গুরুত্বও প্রমাণ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV