নিজস্ব প্রতিনিধি,
রাতের সীমান্তে বাতাসে এক অদ্ভুত নীরবতা। পাথরঘাটার নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধ চাষি ধীরে বলেন, আজ বাতাসটা যেন ভারী। দূরের আকাশে হঠাৎ জ্বলে ওঠা আগুনের রেখা—ভারতের মিসাইল স্টেটের আলো—শুধু আকাশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশকেই উত্তপ্ত করে তোলে। ভারতীয় গণমাধ্যমের একাংশ তখন গর্জে উঠছে—বাংলাদেশে অভিযান চালাতে হবে, শিলিগুড়ি করিডরকে নিরাপদ করতে হবে।
কিন্তু এই গর্জনের মধ্যেই ভারতের ভেতর থেকে উঠে এসেছে ভিন্ন সুর। দক্ষিণ ভারতের শতবর্ষী সংবাদপত্র মাতৃভূমি এক বিশ্লেষণে বলেছে, বাংলাদেশে সামরিক অভিযান ভারতের জন্য আত্মঘাতী হবে। তাদের মতে, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক কেবল সীমান্তকেন্দ্রিক নয়; এটি গভীর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনে গাঁথা। বাংলাদেশে অস্থিরতা মানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংকট।
ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষক কর্নেল অরবিন্দ কুমার স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা যুদ্ধের জন্য অনুকূল নয়। অসংখ্য নদী, খাল, বন ও ঘন জনবসতি ভারতীয় সেনাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ইতিহাসও দেখায়, বিদেশি শক্তি কখনো ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান কিংবা ইরাকে সহজে জয় পায়নি। বাংলাদেশেও লড়াই মানে হবে পুরো জাতির প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়া।
এদিকে ভারতের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক মন্দা, কৃষক আন্দোলন, ধর্মীয় বিভাজন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের ভোট রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মাতৃভূমি লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্তের মূল বিবেচনা রাজনৈতিক লাভ। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে লাভের চেয়ে ঝুঁকিই বেশি।
আরেকটি বড় উদ্বেগ পাকিস্তান। বাংলাদেশে ভারত আক্রমণ চালালে ইসলামাবাদ নীরব থাকবে না। পরোক্ষ সহায়তা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত পারমাণবিক ঝুঁকির দিকে গড়াতে পারে। উপরন্তু, বাংলাদেশ এখন আর আগের মতো নয়—উন্নত রাডার, ড্রোন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতায় যুদ্ধ নয়, কূটনীতিই দিল্লির যুক্তিসঙ্গত পথ। দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগুন নয়, সংযমই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।
Leave a Reply