নিজস্ব প্রতিনিধি,
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। ধীরে ধীরে পুরো গাজা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী—যা সেখানে বসবাসরত প্রায় ২২ লাখ ফিলিস্তিনির জন্য ভয়াবহ আশঙ্কার বার্তা দিচ্ছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট (কাচ) সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেইতেলে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্পষ্ট করেন, গাজা থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী কখনোই প্রত্যাহার করা হবে না। তার এই বক্তব্যে গাজা উপত্যকায় স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা গাজার গভীরে অবস্থান করছি এবং কখনোই গাজা ছেড়ে যাব না।” পাশাপাশি তিনি জানান, উপযুক্ত সময়ে উত্তর গাজায় উচ্ছেদ হওয়া বসতিগুলোর এলাকায় ‘নাহাল আউটপোস্ট’ নামে সামরিক ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য যে, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ইসরাইল এসব সামরিক কৃষি আউটপোস্ট স্থাপন করেছিল, যার অনেকগুলো পরবর্তীতে স্থায়ী বেসামরিক বসতিতে রূপ নেয়।
তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষিত সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নেতানিয়াহু একাধিকবার জানিয়েছেন, গাজায় পুনরায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা তার সরকারের নেই। এছাড়া এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত শান্তি পরিকল্পনারও পরিপন্থী, যেখানে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে—যা এখনো আলোচনাধীন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার এমন সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে।
প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্য থেকে আংশিকভাবে সরে আসেন। তার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজা উপত্যকায় বসতি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য কেবল নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply