নিজস্ব প্রতিনিধি,
আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তাপ ছড়াচ্ছে আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গ্রীনল্যান্ডকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দ্বীপটি কিনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তখন ডেনমার্ক ও গ্রীনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। তবে দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রীনল্যান্ড-সংক্রান্ত আগ্রহ কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে তা নতুন বিতর্কে রূপ নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত হিসেবে নিযুক্ত লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির এক মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গ্রীনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে তা দ্বীপটির বাসিন্দা ও মার্কিন নাগরিক—উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, দেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা করা তাদের মৌলিক নীতি এবং কোনো বিদেশি বক্তব্য সেই নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। একইসঙ্গে গ্রীনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও জোর দিয়ে বলেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রীনল্যান্ডের জনগণের।
বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলে বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হচ্ছে এবং বিপুল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাও সামনে আসছে। এই কারণেই গ্রীনল্যান্ডের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪২ সাল থেকে সেখানে সামরিক ও রেডিও ঘাঁটি পরিচালনা করছে এবং ২০২০ সালে রাজধানী নিউকে পুনরায় কনস্যুলেট চালু করে, যা অঞ্চলটিতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত আগ্রহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
Leave a Reply