1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
September 5, 2026, 12:53 pm

দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে নতুন বাংলাদেশের উত্থান

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, November 27, 2025
  • 91 Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি,

দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক শক্তির মানচিত্রে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল পক্ষ হিসেবে দেখা হতো—বিশেষত বিমানশক্তি, উন্নত যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ছিল স্পষ্ট ঘাটতি। কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পর নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া দ্রুতগতির সামরিক আধুনিকায়ন উদ্যোগ পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক চুক্তি, আলোচনায় থাকা ক্রয় প্রক্রিয়া এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব বাংলাদেশের সামরিক ক্ষমতা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

ইতোমধ্যে চীন থেকে ২০টি জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, যা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কৌশলগত বিনিয়োগের মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরই মাঝে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে আরও আলোড়ন তুলেছে একটি নতুন তথ্য—বাংলাদেশ সম্ভবত পাকিস্তান থেকেও জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে পারে। দুবাই এয়ারশোতে পাকিস্তান জানায়, তারা একটি ‘বন্ধু দেশ’-এর সঙ্গে জেএফ-১৭ বিক্রির একটি বড় চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদন ইঙ্গিত করে, সম্ভাব্য দেশটি বাংলাদেশই হতে পারে। যদি এটি সত্য হয়, তবে এটি হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান অধিগ্রহণ।

জেএফ-১৭ হলো পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান মাল্টিরোল ফাইটার, যা চীন-পাকিস্তান যৌথভাবে তৈরি করেছে। ৪.৫ প্রজন্মের এই জেট আকাশ–আকাশ ও আকাশ–ভূমি হামলার পাশাপাশি জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল, গাইডেড বোমা এবং ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র বহনে সক্ষম। ড্রপ ট্যাংকসহ এর পাল্লা প্রায় ৩,৪৮২ কিলোমিটার, এবং এতে রয়েছে ২৩ মিমি টুইন ব্যারেল কামান—যা মাঝারি ব্যয়ে উচ্চ কার্যক্ষমতার একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম।

অন্যদিকে, জে-১০সি আরও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর। শক্তিশালী AESA রাডার, অত্যাধুনিক BVR মিসাইল, সুপার-ম্যানুভারেবিলিটি এবং স্বল্প রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন সক্ষমতার কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম কার্যকর মাল্টিরোল ফাইটার জেট হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ এই প্রকল্পে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করছে, যা আগের সব বিমান ক্রয়ের চেয়ে অনেক বড়।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে ২১২টি এয়ারক্রাফট, যার মধ্যে মাত্র ৪৪টি যুদ্ধবিমান। পুরনো এফ–৭, মিগ–২৯ কিংবা ইয়াক–১৩০ প্রশিক্ষক বিমান আধুনিক যুদ্ধ পরিস্থিতির চাহিদা পূরণে সক্ষম নয়। তাই আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন আকারে বিনিয়োগ এখন জরুরি বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার তথ্যমতে, ঢাকা ২০৩০ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যেখানে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ শুধু বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাকেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV