নিজস্ব প্রতিনিধি,
ভিয়েতনামে টানা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দেশজুড়ে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১২ জন। দেশের কয়েকটি অঞ্চল এখনও পানিবন্দি থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্যোগে ১ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। বন্যার পানিতে ৩০ লাখেরও বেশি গবাদিপশু ভেসে যাওয়ায় কৃষিনির্ভর ভিয়েতনামের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে। সরকারি প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রোববার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় আড়াই লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে সাবস্টেশন ও বিদ্যুৎলাইন। ফলে বহু এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দেশের প্রধান মহাসড়ক এবং রেলপথের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, যা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে আরও ধীর করে দেয়।
সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সবচেয়ে বিপর্যস্ত এলাকা দুর্গম পাহাড়ি প্রদেশ ড্যাকলাক, যেখানে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। ওই অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস হওয়ায় পুরো গ্রাম মাটির নিচে চাপা পড়েছে, বহু মানুষ নিখোঁজ এবং এখনও আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অভিযান চালাচ্ছেন।
ড্যাকলাক ছাড়াও কোয়াং, নগাই, জিয়ালাই, খানহোয়া এবং লামডং প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রামে বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার অভাব তৈরি হয়েছে। কারণে তাৎক্ষণিক ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হেলিকপ্টার, নৌকা ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দুর্গত মানুষদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
ভিয়েতনামের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যা ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে এবং এবারকার বন্যা তারই শক্তিশালী উদাহরণ।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুনর্বাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গৃহহীনদের অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পশুপালকদের আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
Leave a Reply