আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে, যা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আবারও স্থিতিশীল করেছে।
এছাড়া ম্যানিফা ওয়েলফিল্ড থেকে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ইউনিটে মেরামত ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজও চলছে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় আরও জানায়, খুরাইস তেলক্ষেত্রের পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। এটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হবে, যা বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রিয়াদ, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং ইয়ানবু ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধাপে ধাপে উৎপাদন স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত উৎপাদন পুনরুদ্ধার ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে পারলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কমে আসবে। বিশেষ করে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সৌদি আরবের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে জ্বালানি বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে সৌদি আরবের উৎপাদন পুনরুদ্ধার বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক সংকেত।
Leave a Reply