আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চীন প্রশান্ত, ভারত ও আর্কটিক মহাসাগরজুড়ে ব্যাপকভাবে সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি এবং নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। নৌ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য সামুদ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা, যা ভবিষ্যতে সাবমেরিন যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে চীনকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
গবেষণা জাহাজ “দং ফাং হং থ্রি” ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিকবার তাইওয়ান প্রণালী, মার্কিন ঘাঁটি গোয়ামের আশপাশের সমুদ্র এলাকা এবং ভারত মহাসাগরের কৌশলগত অঞ্চলে যাতায়াত করেছে। সংশ্লিষ্ট গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটি উন্নতমানের সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানির নিচে থাকা বিভিন্ন বস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং সমুদ্রতলের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সমুদ্রতলের এই তথ্য চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সাবমেরিনকে আরও নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রতিপক্ষের সাবমেরিন শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতের নৌ যুদ্ধের কৌশলে এই তথ্য বড় ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের এই কার্যক্রম তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ। মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানিতে নৌ গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাইক ব্রুক্স জানান, চীন সামুদ্রিক জরিপ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও চীন এ ধরনের কার্যক্রমে বেসামরিক গবেষণা জাহাজ ব্যবহার করছে, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য সামরিক তথ্য সংগ্রহ। বিশ্লেষকদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে এই সমুদ্র জরিপ কার্যক্রম চীনের নৌ শক্তিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
Leave a Reply