1. tistanewsbd2017@gmail.com : Tista24 :
September 6, 2026, 5:21 pm

মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকি: আগুনের বৃষ্টি প্রস্তাব

Reporter Name
  • Update Time : Monday, March 30, 2026
  • 127 Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুরা জনসমক্ষে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল অভিযানের নীল নকশা আঁকছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করছে, যা সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। ইরানও সতর্ক ও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে কোনো স্থল আক্রমণ হলে তারা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করবে। খবর সূত্র হিসেবে সিএনএন ও আলজাজিরা উল্লেখযোগ্য।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো নিশ্চিত করেনি যে আমেরিকান সেনারা ইরানে পাঠানো হবে কিনা, তবে সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে যতদূর যেতে হয় ততদূর যেতে প্রস্তুত এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সফল হতে দেওয়া হবে না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন যে স্থল অভিযান এই মুহূর্তে পরিকল্পনার অংশ নয়, তবে সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে। কংগ্রেসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কেন স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে।

মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যরা ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে একটি বি-১বি বোমারু বিমান থেকে গোলাবারুদ নিরাপদে সংরক্ষণ করছেন।

জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানে সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা সেনা পাঠানোর বিরোধী। যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক দ্রুত এসএমএস জরিপেও অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই করা রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ৪৩ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ অনিশ্চিত ছিলেন।

সংঘাত হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে। ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যা মানবিক সংকট এবং অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা বাড়াবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং ইরান আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে। এর ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বৈশ্বিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটে দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানে রয়েছে, কোনো আপসের লক্ষণ নেই, যা পরিস্থিতিকে ক্রমেই সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Jaldhaka IT Park
Theme Customized By LiveTV