আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে তেহরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তেহরানের শারান তেল ডিপো, আগদাসিয়েহ তেল গুদাম, তেহরান রিফাইনারি, কারাজ শহরের একটি জ্বালানি ডিপো এবং একটি তেল উৎপাদন স্থানান্তর কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার পর কয়েকটি স্থাপনায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, হামলার ফলে কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত দমকল বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তেহরান ও আশপাশের এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলায় লক্ষ্য করা হয়েছে এমন জ্বালানি স্থাপনাগুলো যা ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এসব স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য ছিল বলে তারা জানিয়েছে।
অন্যদিকে তেহরান এই হামলাকে “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন” আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরান বলেছে, এ হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও মিত্র স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় এ হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চলমান এই সংঘাতের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a Reply