ডেস্ক রিপোর্ট:
দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সমন্বয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই অঞ্চলের বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে শক্তিগুলোর দিকোপযোগী অবস্থান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করছে। ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে বেইজিং “তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ” চায় না এবং এই অঞ্চলে তারা নিজেদের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে ইচ্ছুক।
একই সাথে, গতকাল একটি বৈঠকে বাংলাদেশে স্থাপিত চীনা রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কাছে চীনের পক্ষ থেকে কৌশলগত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেছেন, চীন বাংলাদেশের জাতীয় নীতি ও সরকারের “সবার আগে” দর্শনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা করতে চাইছে।
এর মধ্যেই ভারতও দক্ষিণ এশিয়ায় তার ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভারত ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোকে অগ্রাধিক্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এবং এ অঞ্চলে তার নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নিজস্ব অবস্থান সুরক্ষায় মনোযোগ দিচ্ছে, বিশেষত বহুপাক্ষিক পরিকল্পনা ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের মাধ্যমে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কল্যাণে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দুই দিকেই কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ফলে চীন ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণগুলো জটিল ও বহুস্তরীয় হয়ে উঠছে—এতে প্রতিটি দেশই নিজ প্রয়োজনে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা খুঁজছে।
এই মনোভাবের পেছনে মূলত:
অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও অবকাঠামো সহযোগিতা
নিরাপত্তা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রভাব বিস্তার
যেমন দিকগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে দেখা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সরকার তাদের স্বার্থ রক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদেশি শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতা তৈরি করছে—যাতে তাদের অঞ্চলের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অক্ষুন্ন থাকে।
Leave a Reply