আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আজ শুক্রবার ওমানে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে। ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা—দুটোই তুঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় বসলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কৌশল ও চূড়ান্ত লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এটিই দুই দেশের প্রথম সরাসরি বৈঠক। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তির উদ্যোগ নিলেও ইরান–ইসরায়েলের ১২ দিনের সংঘাত এবং পরবর্তী মার্কিন হামলায় সেই প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানে সরকারবিরোধী প্রাণঘাতী বিক্ষোভ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা কঠোরভাবে সীমিত করার পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবি তুলতে চায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত না হলে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, আলোচনা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এই মতপার্থক্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরান উপকূলের কাছে বিমানবাহী রণতরি ও যুদ্ধজাহাজসহ বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে, যাকে ট্রাম্প ‘আর্মাডা’ বলে উল্লেখ করেছেন। ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছে।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষক সিনা আজোদি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দুর্বল অবস্থানে মনে করেই ‘ছাড়হীন শর্ত’ সামনে আনছে, যা আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ সংলাপের জন্য একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply